রাজশাহী জেলা সদর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নাটোর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুঠিয়া রাজবাড়ী রাজশাহীতে অবস্থিত নজরকাড়া স্থাপত্যের একটি অনন্য নিদর্শন, যা ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতিতে উনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। মূল রাজপ্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন মহারানী হেমন্তকুমারী দেবী তার শাশুড়ির স্মরণে ১৮৯৫ সালে, ইন্দো ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতিতে আয়তাকার দ্বিতল ভবন হিসেবে, যার সম্মুখভাগের স্তম্ভ ও কাঠের কারুকাজ আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
শুধু রাজপ্রাসাদই নয়, এর আশপাশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে টেরাকোটা অলংকরণে সমৃদ্ধ একাধিক মন্দির। পুঠিয়া রাজবাড়ি ও তার পার্শ্ববর্তী মৌজায় মোট চৌদ্দটি মন্দির এখনো পূর্ণাঙ্গ অবয়বে টিকে আছে, যার মধ্যে রয়েছে পঞ্চরত্ন, দোচালা, অষ্টকোণা একরত্ন এবং পিরামিড আকৃতির চূড়াসহ বিভিন্ন গঠনরীতির মন্দির, যা ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো বড় শিব মন্দির, যা ১৮২৩ খ্রিষ্টাব্দে রানী ভুবনময়ী দেবীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ শুরু হয়ে ১৮৩০ সালে সম্পন্ন হয়, এবং তার নামানুসারেই একে ভুবনেশ্বর মন্দিরও বলা হয়।
নিরাপত্তার জন্য পুরো রাজবাড়ি এলাকা পরিখা দ্বারা বেষ্টিত, যার মধ্যে রয়েছে শিবসাগর, গোপালচৌকি, বেকিচৌকি, গোবিন্দ সরোবরসহ একাধিক দিঘি, আর কেন্দ্রস্থলে রয়েছে শ্যামসাগর নামে একটি বিশাল পুকুর — সব মিলিয়ে এলাকার আয়তন প্রায় ২৫.৯৩ একর।
ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে পুঠিয়ার ১৪টি স্থাপনাকে ইতিমধ্যে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে প্রতিদিনই স্থানীয় বাসিন্দা ও দূর-দূরান্তের পর্যটকরা ভিড় জমান এই ঐতিহাসিক স্থানে — কেউ আসেন ইতিহাসের টানে, কেউ বা প্রকৃতির মাঝে অবসর কাটাতে। বিকেলের নরম আলোয় প্রাচীন মন্দিরের সিলুয়েট আর সবুজ চত্বরে মানুষের আনাগোনা মিলিয়ে পুঠিয়া হয়ে ওঠে যেন সময়ের এক জীবন্ত জাদুঘর।
তবে ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সম্প্রতি রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের একটি প্রাচীন ভবন ভাঙাকে কেন্দ্র করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ভাঙচুরের কাজ ফের শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এমন ঐতিহাসিক নিদর্শন রক্ষায় আরও কঠোর নজরদারি জরুরি।
পুঠিয়া রাজবাড়ি: টেরাকোটার কারুকাজে বাংলার ইতিহাসের নীরব সাক্ষী
১১ ভিউ
ছবি : পুঠিয়া রাজবাড়ি কমপ্লেক্সের একাংশ, রাজশাহী।
📢
নতুন বিজ্ঞাপন স্লট
৭২৮×৯০ · বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন!